বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোরবানীর সঙ্গে আক্বীকা দেয়া যাবে কি ?



কিয়াছ বা আন্দাজিক ফতোয়া নয় আসুন জেনে নিই সুন্নাহ সম্মত আক্বীকা দেয়ার বিধানঃ
হযরত সামুরা রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেন,
প্রত্যেক সন্তান তার আকিকার বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে রক্ষিত। অতএব সপ্তম দিন তার পক্ষ থেকে আকিকা কর, তার চুল কাট ও তার নাম রাখ। (আহমদ, তিরমিজি-সহিহ সূত্রে)

নবজাতকের চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা করা সুন্নত। আলী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম হাসানের পক্ষ থেকে একটি বকরি আকিকা দিয়েছেন এবং বলেছেন, হে ফাতিমা, তার মাথা মুণ্ডন কর ও তার চুলের ওজন পরিমাণ রৌপ্য সদকা কর। (তিরমিজি)।

আক্বীকার বিধানঃ
আক্বীকার উপর রাসুল সঃ এর এসব গুরূত্ত্বারোপের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ ইমাম আক্বীকা কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন।

কোরবানী ও আক্বিকা দুটি ভিন্ন ইবাদত। কোরবানীর সাথে আক্বিকাকে এক করার কোন সুযোগ নেই। রাসুল (সাঃ) সন্তানের আক্বিকা সপ্তম দিনে করবার নির্দেশ দিয়েছেন।

আর আক্বিকা হল সন্তানের নিরাপত্তা টিকা। এর মাধ্যমে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এখন ধরুন একটি বাচ্চার জন্ম হল কোরবানী ঈদের ১০ মাস আগে। যদি কোরবানীর সাথে তার আক্বিকা একসাথে করতে হয় তবে এই দশ মাস বাচ্চাটি নিরাপত্তাহীন থাকবে।

রাসুল(সাঃ) ছেলের জন্য দুটি ও মেয়ের জন্য একটি ছাগল আক্বিকার নির্দেশ দেন। কিন্তু কোরবানীর পশুর সাথে অংশীদারে আক্বিকা দেয়ার কোন বিধান হাদীসে নেই।

হযরত ইমাম আবু হানিফা রহঃ কোরবানীর সঙ্গে আক্বিকা দেয়া জায়েজ বললেও অন্য তিন ইমাম কোরবানীর সঙ্গে আক্বীকা দেয়া কে নাযায়েজ বলেছেন।

আক্বিকার সকল নিয়ম হাদীসে পরিষ্কার বর্ণীত থাকা সত্তেও আমরা ঐ নিয়মে না করে মানুষের বানানো নিয়মে কেন করবো?

তাই সকলের কাছে অনুরোধ কোরবানীর সাথে আক্বিকা একসাথে দিবেন না। কেননা, এতে করে সুন্নাতের অনুসরণ তো হয়ইনা বরং আক্বিকার শুদ্ধতা নিয়ে ও প্রশ্ন থাকে।
দেখুন এ বিষয়ে হাদীস কি বলেঃ

 عَنْ أُمِّ كُرْزٍ الْكَعْبِيَّةِ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ « عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاة
ٌ
উম্মে কুরযিল কা’বিয়্যাহ রাঃ বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, ছেলের জন্য দু’টি একইমানের বকরী ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী [আক্বিকা দিবে]।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮৩৬, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৫১৩, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৯৬৬, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৩১৩, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৪৬৪৮, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯০}

عن أم كرز قالت قالت امرأة من أهل عبد الرحمن بن أبي بكر إن ولدت امرأة عبد الرحمن غلاما نحرنا عنه جزورا فقالت عائشة : لا بل السنة عن الغلام شاتان مكافئتان وعن الجارية شاة يطبخ جدولا ولا يكسر لها عظم فيأكل ويطعم ويتصدق يفعل ذلك في اليوم السابع فإن لم يفعل ففي أربع عشرة فإن لم يفعل ففي إحدى وعشرين

হযরত উম্মে কুরজ বলেন, আব্দুর রহমান বিন আবী বকরের পরিবারের এক মহিলা বলেন, আব্দুর রহমানের স্ত্রী ছেলে সন্তান প্রসব করে, তখন আমরা তার পক্ষ থেকে একটি ভেড়া জবাই করেছি। তখন হযরত আয়শা রাঃ বললেন-এমনটি নয়, বরং পদ্ধতি হল-ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি সমান পর্যায়ের বকরী আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী দিবে [আক্বিকা]।
তারপর এটিকে রান্না করবে, হাড্ডি কে ভাঙবেনা, তারপর তা নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে, এবং দান করবে।

একাজগুলো করবে সপ্তম দিন, সেদিন সক্ষম না হলে চৌদ্দতম দিন, সেদিনও সক্ষম না হলে একুশতম দিন করবে আক্বিকা। [মুসনাদে ইসহাক বিন রাহহুয়া, হাদীস নং-১২৯২}

একুশ তম দিনে ও যদি কেউ আক্বীকা দিতে সক্ষম না হয় তাহলে যে কোন দিন দেয়া যায়।
আক্বীকার চামড়া বিক্রি করা বৈধ নয়, ছদকা করে দিতে হয়।

عن جعفر بن محمد عن أبيه أنه قال وزنت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم شعر حسن وحسين وزينب وأم كلثوم فتصدقت بزنة ذلك فضة

হযরত যাফর বিন মুহাম্মদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তার পিতা বলেছেন-হযরত ফাতেমা বিনতে রাসূল সাঃ হাসান, হুসাইন, জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চুল ওজন করে সে পরিমাণ রোপা সদকা করে দিয়েছেন।
{মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-১৮৩৯, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৮২৬২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৯০৭

এর পরে ও কি কোরবানীর সাথে আক্বিকা করবেন?

হাদীসে এতো সুন্দর আক্বিকার বিধান থাকার পরেও কেন ইন্ডিয়া বাংলাদেশে জনৈক আলেমের কিয়াছি ফতোয়া প্রচার করা হয় বুঝে আসেনা,
যে আমল রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ি তাবে তবেয়ি, কারো যুগে হয়নি এবং আজ পর্যন্ত কোন আরব দেশে হচ্ছেনা অর্থাৎ কোরবানীর সাথে আক্বীকা সেটা আমরা করতে যাবো কোন দূখেঃ?

মোট কথাঃ
আক্বিকা করবো সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনে ছেলে হলে দুইটি এক বছর বয়ষ্ক চাগল বা ভেড়া আর মেয়ে হলে একটি চাগল বা ভেড়া জবাই করে নিজে খাবো আত্মীয় স্বজন ও মিসকিন দের কেও খাওয়াবো এবং সন্তানের ভাল নাম রাখবো।

হে আল্লাহ তুমি আমাদের তোমার দ্বীনের সহীহ এলম দান করূূন - আমীন।
ছাঈদ কোদালাভী - ২২/১০/২০১৪ ইং

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০১৫

ব্লগ কিভাবে খুলবেন?

নাস্তিক ব্লগারদের সকল চ্যালেন্জ মোকাবেলায় আপনিও একটি ব্লগ খুলে দাওয়াতি কাজে অংশ নিন।রেডিও সুন্নাহ

আজকে আমি আপনাদেরকে দেখাবো কিভাবে আপনি Blogger Blog এ Account ওপেন করবেন এবং নিজের ব্লগ সাইট খুলবেন।

আমি গত পরশূ দিনের একটি প্রবন্ধে লিখেছিলাম ব্লগ লিখতে হলে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা থাকতে হয়, দ্বীনী ইলম শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য চর্চা করলেই সহজে ইলমের বিকাশ ঘঠানো যায়। মানুষ সেই ইলম হতে উপকৃত হয়।
আপনার যদি লেখা লেখির অভ্যাস থাকে আজই একটি ব্লগ খুলে কোরআন সুন্নাহর অমিয় বানী পৌঁছে দিন বিশ্বের সকল মানুষের ঘরে ঘরে।
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত CMS সাইট হল Google এর blogger।

আপনি ব্লগ তৈরী করতে পারবেন বিনা খরচে এর মাধ্যমে একটি website তৈরী করা যায়। ব্লগার দিয়ে আপনি একটি Personal বা Official Blog তৈরী করতে পারবেন ।

Blogger Blog এর সুবিধা:

Blog থেকেই বিপুল পরিমাণ টাকা উপার্জন করা যায় । Blogger Blog এ Adsence,Chitika,Amazan,E-bay ইত্যাদি সহ অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট লিংক,বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে এছাড়া আরো অনেক কাজ করে আপনি টাকা উপার্জন করতে পারেন। বিনামূল্য Blogging এর জন্য Wordpress এবং Bloger হল জনপ্রিয় । এদের মধ্যে wordprees এ বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা যায় না কিন্তু Blogger এ বিজ্ঞাপন ব্যবহার করা যায়। এছাড়া Blogger এর জন্য অনেক Theme এবং widget পাওয়া যায় যা আপনার Blog কে অনেক সুন্দর করে তুলবে। এটিকে খুব সহজেই Edit করা যায়। এটি SEO ফ্রেন্ডলি।

এবার আর কথা না বাড়িয়ে আমরা আমাদের আসল কাজে চলে যায়।

১. প্রথমে আপনার Google এর Gmail Account অবশ্যই থাকতে হবে। যদি না থাকে তাহলে Blogger এ Blog খুলতে পারবেন না।

২.তারপর www.blogger.com এ যাবেন।

৩. সেখানে আপনি আপনার gmail id এবং password দিয়ে sign in করুন।

৪. এর পর দুটি লাল চিহূ আসবে লাল চিহ্নিত অংশটির মধ্যে ১ নং টি হল “ব্লগার ব্লগে অবিরত রাখুন”

২য় অংশটি হল “ভাষা পরিবর্তন”
আপনি চাইলে বাংলা /ইংরেজী বা অন্যান্য ভাষা পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

৫. আপনি “ব্লগার ব্লগে অবিরত রাখুন” এই অংশে Click করুন।তারপর আপনি একটি চিত্র দেখতে পাবেন-

৬. এরপর লাল চিহ্নিত অংশ “নতুন ব্লগ” এ Click করুন।

৭. নতুন ব্লগে click করার পর নিচে একটি page আসবে।

১০. এখানে “শিরোনাম/TITLE” অংশে আপনি আপনার ব্লগের শিরোনাম বা নাম দিবেন। আর ঠিকানা/URL অংশে আপনি আপনার WEB এর ঠিকানা দিন। । এরপর সেখান থেকে একটি Templete/Design পছন্দ করুন।
তারপর “ব্লগ তৈরী করুন/Create Blog” এই অংশে click করুন।

১১. তারপর একটি page আসবে।
“View Blog” এতে click করলে আপনি আপনার তৈরীকৃত Blog টি দেখতে পারবেন।

১২. এখানে কলমের মত একটি চিহ্ন দেখবেন এই অংশে click করলে আপনি আপনার Blog এ নতুন post করতে পারবেন।

১৩. এরপর আরেকটি অংশ আছে post list। এই অংশে অনেকগুলো option দেখতে পারবেন। Overview,Posts,Pages,Comments,Layout,Earning,Templete,Setting, Google+,States……

Overview: এই অংশের কাজ হল মোট কতজন ভিজিটর আসল বা কতজন ভিজিট করল,কত page view হয়েছে এখান থেকে তা জানা যায় এবং দেখা যায়।

Posts:এই অংশের কাজ হল। এখান থেকে সকল post একসাথে দেখা যায়।post Edit, Delete,Update করা যায়। কতগুলো post Published হয়েছে সেটি দেখতে পারবেন।

Pages: এখান থেকে সকল Page গুলো দেখা যায় এবং নতুন Page তৈরী করা যায়।

Stats: এখান থেকে সর্ম্পূণ ভিজিটর এর তথ্য দেখতে পারবেন।

Layout: এর কাজ হল ব্লগে নতুন কিছু যোগ করা বা বাদ দেয়া।

Templete: এখানে Theme/Templete Upload দেয়া । এছাড়া এর ভিতর বিভিন্ন কাজ করা যায়।

Settings: এর কাজ হল আপনার ব্লগের সর্ম্পূণ কিছু এখানে নিয়নত্রণ করা যায়।

ব্যাস হয়ে গেলো আপনার Blogger Blog . . .

তাহলে আজকের মতো এই পর্যন্ত আবার দেখা হবে অন্য কিছু নিয়ে ।
আর হ্যাঁ আমার এই পোস্টে কোন রকম ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার চোখে দেখবেন । আমি যথাসাধ্য আপনাদের এই পোস্টে বোঝানোর চেষ্টা করেছি , কিন্তু তাও যদি কার কোন প্রশ্ন থাকে তা হলে আমাকে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমি আপনাদের হেল্প করার চেষ্টা করবো ।

গুগুলে আমার ব্লগঃ ১- রেডিও সুন্নাহ ২-নুরের ঝিলিক পড়ার অনুরোধ রইল।

আল্লাহ হাফেজ ।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০১৫

কাওমী মাদ্রাসার অবদান ও সরকারের অবহেলা


খোদা ভীরূ শিক্ষিত আদর্শ নাগরীক তৈরীর একমাত্র কারখানা কাওমী মাদ্রাসা,
বাংলাদেশে ছোঠ বড় প্রায় ৮০ হাজার কাওমী মাদ্রাসা দেশের ধর্ম প্রান মুসলমানদের পকেটের পয়সায় পরিচালিত হয়ে আসছে শত বছর ধরে, প্রতি বছর হাজার হাজার আলেম ঐসব মাদ্রাসা হতে টাইটেল পাশ করে দেশ বিদেশে জাতির সেবায় নিয়োজিত হয়, একজন মানুষের জন্ম হতে মৃত্যূ পর্যন্ত এবং দেশ ও সমাজের সর্ব ক্ষেত্রে সার্বিক অবদান রাখছে এসব কাওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা, এ ছাড়া মধ্য প্রাচ্যের প্রায় সব দেশে বিভিন্ন মসজিদ, তাহ্ফীজ (হিফজ মাদ্রাসা) ও বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ কাওমী মাদ্রাসার ছাত্ররাই আন্জাম দিয়ে আসছে।

 দেশের এসব মাদ্রাসা গূলোর ব্যয় ভার গ্রহন করার দায়িত্ব ছিল সরকারের কিন্তু এসব দায়িত্ব কে পালন করে থাকেন কোন দিন ভেবে দেখছেন কি?
একজন মাদ্রাসা পরিচালক কে ছাত্রদের খাদ্য ও শিক্ষক গণের বেতন যোগাতে কত বার মানুষের ধারে ধারে যেতে হয়, একটি ছাত্রাবাস নির্মাণে পরিচালক ও এলাকার মানুষের কত পরিশ্রম করতে হয় কেউ ভেবে দেখেছেন কি?
মাদ্রাসার ছাত্ররা কি খায় কোথায় ঘুমায় সরকার কোন দিন খবর নেয়?

 একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ঐসব মাদ্রাসার আদর্শবান ছাত্রদের কিছু কথা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চায় হয়তো কারো উপর আল্লাহর রহমত হতে পারে এবং হয়তো এসব মাদ্রাসা গূলো সংষ্কার ও আধুনিকায়নে কোন দিন সরকার এগিয়ে আসবে।

কাওমী ছাত্রদের খাদ্য ও বাসষ্হানের অবস্হাঃ

ঠান্ডা মাটিতে সামান্য একটি মোটা কাঁথা বিছিয়ে, আরেকটি শত ছিন্ন কাঁথা গায়ে মুড়িয়ে, এক থেকে দেড় হাত পরিমাণ স্থানে লম্বা লম্বিভাবে রাতের পর রাত কাটিয়ে দেয়া, সকাল, দুপুর বিকাল প্রায় সময়ই আহার বলতে এক প্লেট ভাত, সাথে পাতলা ডাল। কখনো সখনো সামান্য ভাজি বা সবজি। সপ্তাহে কোনো দিন তাকদীর ভালো হলে মাছ বা গোশতের দূর্লভ সাক্ষাত হলেও হতে পারে।

এভাবেই চলছে এই দেশের লাখো লাখো কওমী মাদ্রাসা ছাত্রদের শিক্ষাজীবন। পারিপার্শ্বিক শত-সহস্র বাহ্যিক অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েও একমাত্র মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে উদগ্রীব শিক্ষার্থীদের দিনগুলো কিন্তু মনস্তাত্বিকভাবে মোটামুটি ভালোই কেটে যায়।

তারা দুনিয়াবী হিসেবে অনেক কষ্টের মধ্যে থাকলেও মানসিকভাবে যে বিশাল আশা-আকাঙ্খা আর রব্বে কায়েনাতের উপর নির্ভরতার কারণে এক অনাবিল প্রশান্তিতে দিনাতিপাত করে চলেন তার বাস্তব উপাখ্যান শব্দের গাঁথুনি কিংবা বাক্যের বুননে কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়।

 দুনিয়া নয় আল্লাহর সন্তুষ্টিই লক্ষ্যঃ

কওমী মাদ্রাসা গুলোতে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমদিনের ক্লাসেই একজন শিক্ষার্থীকে যে বিষয়টি পরিস্কারভাবে বলে দেয়া হয়, বুঝিয়ে দেয়া হয় তাহলো- এই প্রতিষ্ঠান এবং এখানকার শিক্ষা দিয়ে তুমি পার্থিব হিসেবে হয়তো তেমন কিছুই করতে পারবে না, কোথাও চাকরী-বাকরী বা কোনো তদবিরে হয়তো এর সার্টিফিকেট তোমাকে তেমন কোনো সহযোগিতা করতে পারবে না, কিন্তু তুমি যদি মহান প্রভূর প্রকৃত বান্দা হতে চাও, এখান থেকে তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল এবং মহান আল্লাহর সাথে আপন সম্পর্ক গড়ে নিতে পারো, তবে দুনিয়াতে তো বটেই দুনিয়ার ওপারের সেই অনাদি অনন্ত জীবনের পরকাল সম্পর্কেও তোমাকে কোনোদিন পেরেশান হতে হবে না। দুনিয়ার বাহ্যিক জৌলুষ আর চাকিচিক্যের দেখা তুমি না পেলেও তোমার রিযক আর দুনিয়াবী নূন্যতম উপকরণ একভাবে না একভাবে ইনশাআল্লাহ ব্যবস্থা হয়েই যাবে।

তাই তুমি এখনই তোমার লক্ষ্য স্থির করে নাও। চূড়ান্ত গন্তব্য নির্ধারণ করে নাও। যদি কেবল দুনিয়া চাও তবে অন্য কোনো পথে অনুসন্ধান করো। দুনিয়াবী সামান্য সাফল্যের দিশা পেতে অন্য কোনো গাড়িতে তুমি আরোহন করতে পারো। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যদি তুমি পরকাল এবং তোমার রবের সন্তুষ্টি চাও, তবে নিশ্চিতভাবে তুমি এই বিশ্বাসে বদ্ধমূল হয়ে যেতে পারো যে, তোমার জন্য এই নববী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।..

চলবে,,,,,

আপনার অভিমত নিচে কমেন্ট করূন।
ছাঈদ কোদালাভী- ০৪-০৭-২০১৫ইং