শনিবার, ৪ জুলাই, ২০১৫

কাওমী মাদ্রাসার অবদান ও সরকারের অবহেলা


খোদা ভীরূ শিক্ষিত আদর্শ নাগরীক তৈরীর একমাত্র কারখানা কাওমী মাদ্রাসা,
বাংলাদেশে ছোঠ বড় প্রায় ৮০ হাজার কাওমী মাদ্রাসা দেশের ধর্ম প্রান মুসলমানদের পকেটের পয়সায় পরিচালিত হয়ে আসছে শত বছর ধরে, প্রতি বছর হাজার হাজার আলেম ঐসব মাদ্রাসা হতে টাইটেল পাশ করে দেশ বিদেশে জাতির সেবায় নিয়োজিত হয়, একজন মানুষের জন্ম হতে মৃত্যূ পর্যন্ত এবং দেশ ও সমাজের সর্ব ক্ষেত্রে সার্বিক অবদান রাখছে এসব কাওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা, এ ছাড়া মধ্য প্রাচ্যের প্রায় সব দেশে বিভিন্ন মসজিদ, তাহ্ফীজ (হিফজ মাদ্রাসা) ও বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ কাওমী মাদ্রাসার ছাত্ররাই আন্জাম দিয়ে আসছে।

 দেশের এসব মাদ্রাসা গূলোর ব্যয় ভার গ্রহন করার দায়িত্ব ছিল সরকারের কিন্তু এসব দায়িত্ব কে পালন করে থাকেন কোন দিন ভেবে দেখছেন কি?
একজন মাদ্রাসা পরিচালক কে ছাত্রদের খাদ্য ও শিক্ষক গণের বেতন যোগাতে কত বার মানুষের ধারে ধারে যেতে হয়, একটি ছাত্রাবাস নির্মাণে পরিচালক ও এলাকার মানুষের কত পরিশ্রম করতে হয় কেউ ভেবে দেখেছেন কি?
মাদ্রাসার ছাত্ররা কি খায় কোথায় ঘুমায় সরকার কোন দিন খবর নেয়?

 একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ঐসব মাদ্রাসার আদর্শবান ছাত্রদের কিছু কথা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি আকর্ষন করতে চায় হয়তো কারো উপর আল্লাহর রহমত হতে পারে এবং হয়তো এসব মাদ্রাসা গূলো সংষ্কার ও আধুনিকায়নে কোন দিন সরকার এগিয়ে আসবে।

কাওমী ছাত্রদের খাদ্য ও বাসষ্হানের অবস্হাঃ

ঠান্ডা মাটিতে সামান্য একটি মোটা কাঁথা বিছিয়ে, আরেকটি শত ছিন্ন কাঁথা গায়ে মুড়িয়ে, এক থেকে দেড় হাত পরিমাণ স্থানে লম্বা লম্বিভাবে রাতের পর রাত কাটিয়ে দেয়া, সকাল, দুপুর বিকাল প্রায় সময়ই আহার বলতে এক প্লেট ভাত, সাথে পাতলা ডাল। কখনো সখনো সামান্য ভাজি বা সবজি। সপ্তাহে কোনো দিন তাকদীর ভালো হলে মাছ বা গোশতের দূর্লভ সাক্ষাত হলেও হতে পারে।

এভাবেই চলছে এই দেশের লাখো লাখো কওমী মাদ্রাসা ছাত্রদের শিক্ষাজীবন। পারিপার্শ্বিক শত-সহস্র বাহ্যিক অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েও একমাত্র মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে উদগ্রীব শিক্ষার্থীদের দিনগুলো কিন্তু মনস্তাত্বিকভাবে মোটামুটি ভালোই কেটে যায়।

তারা দুনিয়াবী হিসেবে অনেক কষ্টের মধ্যে থাকলেও মানসিকভাবে যে বিশাল আশা-আকাঙ্খা আর রব্বে কায়েনাতের উপর নির্ভরতার কারণে এক অনাবিল প্রশান্তিতে দিনাতিপাত করে চলেন তার বাস্তব উপাখ্যান শব্দের গাঁথুনি কিংবা বাক্যের বুননে কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়।

 দুনিয়া নয় আল্লাহর সন্তুষ্টিই লক্ষ্যঃ

কওমী মাদ্রাসা গুলোতে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমদিনের ক্লাসেই একজন শিক্ষার্থীকে যে বিষয়টি পরিস্কারভাবে বলে দেয়া হয়, বুঝিয়ে দেয়া হয় তাহলো- এই প্রতিষ্ঠান এবং এখানকার শিক্ষা দিয়ে তুমি পার্থিব হিসেবে হয়তো তেমন কিছুই করতে পারবে না, কোথাও চাকরী-বাকরী বা কোনো তদবিরে হয়তো এর সার্টিফিকেট তোমাকে তেমন কোনো সহযোগিতা করতে পারবে না, কিন্তু তুমি যদি মহান প্রভূর প্রকৃত বান্দা হতে চাও, এখান থেকে তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল এবং মহান আল্লাহর সাথে আপন সম্পর্ক গড়ে নিতে পারো, তবে দুনিয়াতে তো বটেই দুনিয়ার ওপারের সেই অনাদি অনন্ত জীবনের পরকাল সম্পর্কেও তোমাকে কোনোদিন পেরেশান হতে হবে না। দুনিয়ার বাহ্যিক জৌলুষ আর চাকিচিক্যের দেখা তুমি না পেলেও তোমার রিযক আর দুনিয়াবী নূন্যতম উপকরণ একভাবে না একভাবে ইনশাআল্লাহ ব্যবস্থা হয়েই যাবে।

তাই তুমি এখনই তোমার লক্ষ্য স্থির করে নাও। চূড়ান্ত গন্তব্য নির্ধারণ করে নাও। যদি কেবল দুনিয়া চাও তবে অন্য কোনো পথে অনুসন্ধান করো। দুনিয়াবী সামান্য সাফল্যের দিশা পেতে অন্য কোনো গাড়িতে তুমি আরোহন করতে পারো। কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যদি তুমি পরকাল এবং তোমার রবের সন্তুষ্টি চাও, তবে নিশ্চিতভাবে তুমি এই বিশ্বাসে বদ্ধমূল হয়ে যেতে পারো যে, তোমার জন্য এই নববী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।..

চলবে,,,,,

আপনার অভিমত নিচে কমেন্ট করূন।
ছাঈদ কোদালাভী- ০৪-০৭-২০১৫ইং

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন